মা
হচ্ছেন মমতা-নিরাপত্তা-অস্তিত্ব, নিশ্চয়তা ও আশ্রয়। মা সন্তানের অভিভাবক,
পরিচালক, ফিলোসফার, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও বড় বন্ধু। সন্তানের প্রতি মায়ের এই
তীব্র মমতার ব্যাখ্যায় বিজ্ঞান বলে, মায়ের দুধে এক প্রকার রাসায়নিক যৌগিক
পদার্থ আছে-যা সন্তানের দেহে প্রবেশ করলে মা ও সন্তানের মধ্যে চুম্বক
প্রীতি ও সৌহার্দ্যের নিবিড় বন্ধন সৃষ্টি হয়।
মায়ের দেহে নিউট্রোপেট্রিক রাসায়নিক পদার্থ থাকায় মায়ের মনের মাঝে সন্তানের জন্য মমতা জন্ম নেয়, মায়ের ভালোবাসার ক্ষমতা বিজ্ঞানের মাপকাঠিতে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। পৃথিবীতে আসার আগে সন্তান মায়ের গর্ভে তিলে তিলে বড় হয়। মায়ের দেহ থেকেই খাদ্য গ্রহণ করে। মাকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানানোর নির্দিষ্ট কোন দিন নাই। মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রতিটি মহুতের্র। তারপরও বিশ্বের সকল মানুষ যাতে এক সাথে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে সে জন্য মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আন্তর্জাতিক মা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
মায়ের দেহে নিউট্রোপেট্রিক রাসায়নিক পদার্থ থাকায় মায়ের মনের মাঝে সন্তানের জন্য মমতা জন্ম নেয়, মায়ের ভালোবাসার ক্ষমতা বিজ্ঞানের মাপকাঠিতে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। পৃথিবীতে আসার আগে সন্তান মায়ের গর্ভে তিলে তিলে বড় হয়। মায়ের দেহ থেকেই খাদ্য গ্রহণ করে। মাকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানানোর নির্দিষ্ট কোন দিন নাই। মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রতিটি মহুতের্র। তারপরও বিশ্বের সকল মানুষ যাতে এক সাথে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে সে জন্য মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আন্তর্জাতিক মা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
পশ্চিমের
দেশগুলোতে মা দিবসটি মে মাসের দ্বিতীয় রোববারে উদযাপন করা হয়। আর
বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে এ দিবসে তেমন কর্মসূচি না থাকলেও কিছু কিছু
সংস্থা, সংগঠন ও ব্যক্তি নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালন করে। পৃথিবীর
বিভিন্ন দেশে এ দিবসটি বিভিন্ন সময়ে চলে এসেছে। এরপর ১৮৭২ সালের মে মাসের
দ্বিতীয় রোববার নিজের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে জুলিয়া ওয়ার্ড নিজে ‘মা
দিবস’পালন করেন। ১৯১৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উর্ডো উইলসন দিবসটিকে
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন। এরপর পৃথিবীর দেশে দেশে মা দিবসটি পালনের রেওয়াজ
ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাস থেকে জানা যায় ‘মা দিবসের’ প্রচলন শুরু হয় প্রথম প্রাচীন
গ্রীসে। সেখানে প্রতি বসন্তকালে একটি দিন দেবতাদের মা ‘রিয়া’ যিনি
ক্রোনাসের সহধর্মিনী তার উদ্দেশ্য উদযাপন করা হতো। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন
সময় ‘মা দিবস’ পালিত হতো বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে।
আন্তর্জাতিক
‘মা’ দিবস। বিশ্ব ‘মা’ দিবস। ধূলির এই ধরায় আগমনের মাধ্যম ‘মা’র প্রতি
বিশেষ সম্মান জানানোর একটি দিন। মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বাংলাদেশে পালিত
হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস। সন্তানের প্রতি মায়ের ভালবাসা সহজাত গুণ। এই
ভালোবাসার কারণেই সৃষ্টির ধারা প্রবাহমান। মা হচ্ছেন
মমতা-নিরাপত্তা-অস্তিত্ব, নিশ্চয়তা ও আশ্রয়স্থল। মা সন্তানের পরিচালক,
অভিভাবক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, পথনির্দেশক ও বড় বন্ধু। মা আমার একেবারেই
সাদাসিধে জীবন যাপন করেন। জীবনে একটি প্রত্যাশাত ছেলেমেয়ে মানুষ হবে, সমাজে
প্রতিষ্ঠিত হবে, তাতেই মায়ের শান্তি, তাতেই মায়ের সুখ। আর এ মাকে যেন আমরা
সন্তানরা শুধু দুঃসময়ে নয়, নিজেদের সুখের মুহূর্তেও পাশে পেতে চাই। আজ মা
দিবসে আমরা সন্তানরা এ দৃঢ় অঙ্গীকার করি। শুধু একটি দিনে নয়, প্রতিটি
মুহূর্তে আমরা আমাদের মাকে স্মরণে রাখব। মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা হবে
আন্তরিকতা আর উপলব্ধির। আমরা চাই সন্তানের জন্য, মায়ের জন্য প্রতিটি দিন
আসবে মাদার্স ডে হয়ে। চাই অবিরাম হাসি থাক মায়ের মুখে।
এক
গবেষণায় দেখা গেছে, অন্য বিশেষ দিনগুলোর চেয়ে এ দিনটিতে সবচেয়ে বেশি ফোন
কল হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিআইপি কমিউনিকেশন এর জরিপে বলা
হয়েছে, এ দিনটিতে নববষের্র চেয়ে ৮ শতাংশ, ভালোবাসা দিবসের চেয়ে ১১ শতাংশ
এবং হ্যালোয়েনের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি ফোন কল হয়। দক্ষিণ আফ্রিকানরা মা দিবসে
ফোন করে সবচেয়ে বেশি। তাদের ফোন কলের হার ৯১ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে
রয়েছে ঘানার অধিবাসীরা। বিশ্বে মাত্র দুটি দেশ মিসর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় মা
দিবসে ফোন কলের সংখ্যা কম।। বিশ্বের অনেকগুলো দেশে জাকজমকের সাথে পালিত হয়
এই দিবসটি। স্বল্প পরিসরে হলেও আমাদের দেশেও ইদানিং এই দিবসটি পালিত হচ্ছে।
মা দিবসে মাকে নিয়েই আমাদের আয়োজন। তবে একটা কথা, মা দিবস তো একটা প্রতীকি
দিন। তাই মা দিবসেই শুধু নয়, মাকে ভালোবাসতে হবে বছরের বাকী দিনগুলিতেও।
মা দিবস কেমন করে এলো বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৬টি দেশে প্রতিবছর মা দিবস
পালন করা হয়। তবে দেশ ভেদে মা দিবস পালনের তারিখে যথেষ্ট পার্থক্য আছে।
সাধারণত প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মা দিবস হিসেবে পালন করার রীতি
অনেক দেশেই গড়ে উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় সব কিছুরই আলাদা আলাদা নাম
আছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক ভাষার সাথে আরেক ভাষার কোন মিলই নাই। কিন্তু
পৃথিবীর সব দেশের শিশুর প্রথম ভাষা ‘মা’। তাই এক কথায় ‘মা’ শব্দটি আসলে কোন
ভাষার নিজস্ব সম্পত্তি নয়। এই শব্দটি সার্বজনীন। যেমন দেখো না, ফান্সে মা
বলা হয় মেরি, জার্মানিতে মাটার, হিন্দিতে মাজি, উর্দূতে উমি, ইংরেজিতে
মামি, মাম, মামা, মাম্মি, বাংলায় আম্মা, আম্মি, আম্মাজি, মাগো, মা। ভালো
মতো খেয়াল করে দেখো, মা শব্দটি কী খুব বেশি পার্থক্য সৃষ্টি করছে?
পৃথিবীর
প্রায় সব কবিই মাকে নিয়ে ছড়া-কবিতা লিখেছেন। বাংলাভাষার কবি বা ছড়াকারও
পিছিয়ে নেই এক্ষেত্রে। কবির কল্পনায় মায়ের নানান রূপ ফুটে উঠেছে
ছড়া-কবিতাতে। এসব ছড়া-কবিতায় মা কখনো মমতাময়ী, কখনো খেলার সাথী, কখনো তার
শিশুমনের আজব কল্পনায় সবচেয়ে আপন চরিত্র, কখনোবা একমাত্র অবলম্বন। একেক কবি
মাকে একেকভাবে চিত্রিত করেছেন তাদের ছড়া-কবিতায়। মা দিবসে মাকে নিয়ে এসব
ছড়া-কবিতাগুলো সবার জন্য।
যাদের
মা আছে তাদের তো এমনিতেই সবসময় আনন্দ আছে। যাদের মা নেই তাদেরও কষ্ট আছে
সবসময়। এখন আমরা বিশ্ব মা দিবসে কি খালি যাদের মা আছে তাদের ভালবাসার আর
আনন্দের গল্পই করব, না যাদের মা নেই তাদের জন্যও কিছু করব? বিশ্ব মা দিবসের
আনন্দের মাঝে কতো মা-হারা শিশু কিশোরেরা যে নীরবে চোখের পানি ফেলবে তার
খবর কি আমরা কেউ রাখি?
আমার
তো মনে হয় যাদের মা নেই, তাদের জন্য কিছু করা বেশি দরকার। আসুন যাদের মা
নেই, মা দিবসে আমরা তাদের পাশে থাকি। তাদেরকে শান্ত্বনা দেই। আর তাদের
মায়ের জন্য প্রাণখুলে প্রার্থনা করি।

No comments:
Post a Comment